ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, , ৫ জ্বিলহজ্ব ১৪৪৩
Reg:C-125478/2015

শতাধিক পণ্য আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ শুল্ক বসালো বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৪ মে, ২০২২ ১৬:১৩ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৩৫ বার


শতাধিক পণ্য আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ শুল্ক বসালো বাংলাদেশ

চিনি, পেঁয়াজ, ফুল, বিদেশী ফল, গাড়িসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী ১৩৫টি পণ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণমুলক শুল্ক আরোপ করেছে বাংলাদেশ।

গত সোমবার থেকেই নতুন এই শুল্ক কার্যকর হয়েছে।

এর ফলে বিদেশী ফুল, বিদেশী ফল, আমদানি করা চিনি, অপরিশোধিত সরিষা তেল বা পেঁয়াজের ওপর বাড়তি পাঁচ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হবে। চিনির ওপর শুল্ক বসকে ৩০ শতাংশ।

বিদেশী সুগন্ধি, প্রসাধনী বা রূপসজ্জা পণ্য, গাড়ি, গাড়ির টায়ার এবং বিদেশী আসবাবপত্রের ওপর সর্বোচ্চ বিশ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসবে।

গত সোমবার রাতে এই নির্দেশনা জানিয়ে প্রজ্ঞাপন পরিপত্র জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

এর ফলে এসব পণ্য আমদানি আরো ব্যয়বহুল হবে এবং ক্রেতাদের এসব পণ্য ক্রয়ে আরো বেশি অর্থ গুনতে হবে।

কারণ আমদানিকারকদের এসব পণ্য আমদানি করতে বিদ্যমান কাস্টমস ট্যারিফ, মূসক, কর ছাড়াও অতিরিক্ত এই নিয়ন্ত্রণ শুল্ক দিতে হবে।

বাংলাদেশে ফল, খাদ্য দ্রব্য, যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে বেশিরভাগ পণ্য বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়ে থাকে।

বর্তমানে বিদেশী ফলের ওপর ৫৮ থেকে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক দিতে হয়।

সেখান নিয়ন্ত্রণ শুল্ক দিতে হয় তিন শতাংশ পর্যন্ত।

নতুন নিয়মে এই শুল্ক তিন শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ দিতে হবে।

প্রসাধনী, গাড়ির সরঞ্জাম, সুগন্ধির ওপর এখনো ১০৪ থেকে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হয়।

নিয়ন্ত্রণ শুল্কে এসব পণ্যের দাম আরও বাড়বে।

কেন আমদানি শুল্ক বসালো সরকার?
কর্মকর্তারা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে দেশে যে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে এবং বৈদেশীক মুদ্রার সংকট সামলাতে তারা এই নিয়ন্ত্রণ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মূল্য বৃদ্ধির ফলে ক্রেতারা এসব পণ্য ব্যবহারে বা আমদানিতে নিরুৎসাহিত হবেন বলে কর্মকর্তাদের ধারণা। কিন্তু দেশেই ফুল, ফল উৎপাদন বা আসবাবপত্র তৈরি হওয়ায় তা বাজারের ওপর প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করছেন তারা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মুখপাত্র সৈয়দ এ মোমেন বলছেন, ‘অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, বিলাসবহুল পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা ও আমদানি হ্রাস করার উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোসহ পৃথিবীর সব দেশই বিলাসবহুল পণ্যের আমদানি কমাচ্ছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের জন্য সুরক্ষার ব্যবস্থা নিচ্ছে। এই লক্ষ্যে আমরা মনে করছি, বিদেশী ফল, ফুল, ফার্নিচার, কসমেটিক্স-এ জাতীয় ১৩৫টি পণ্যের ওপর আমদানি করতে বিদ্যমান যে শুল্ক আছে (শূন্য থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত), এর পরিবর্তে আমরা ২০ শতাংশ পর্যন্ত রেগুলেটরি ডিউটি (নিয়ন্ত্রণ শুল্ক) আরোপ করেছি।’

বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এনবিআরের বড় একটি লক্ষ্য বলে তিনি জানান।

তিনি বলছেন, ফুল ও ফল চাষে বাংলাদেশ যথেষ্ট সমৃদ্ধ হয়েছে। ফলে বিদেশী ফুল-ফলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলে তা দেশের চাষিরা ন্যায্য মূল্য পাবে। তেমনি বাংলাদেশে ভালো মানের আসবাবপত্র ও প্রসাধনী সামগ্রী উৎপাদন হচ্ছে। ফলে বিদেশী আসবাব পণ্যের আমদানি কমলে দেশিয় উৎপাদকরা উৎসাহিত হবেন।

সেই সাথে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে, বলেন মোমেন।
যেসব পণ্যের আমদানির ওপর নিয়ন্ত্রণ শুল্ক বসানো হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে:
আপেল, আঙ্গুর, কলা, আম, কমলাসহ বিদেশী ফল- ২০%
ফুল- ২০%
অপরিশোধিত সরিষা তেল- ১০%
চিনি- ৩০%
পেঁয়াজ- ৫%
সুগন্ধি- ২০%
দাঁত সুরক্ষার সরঞ্জাম- ২০%
প্রসাধনী- ২০%
আঠা-১৫%
গাড়ি-৩০%
আসবাবপত্র- ২০%
নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, ফার্স্ট এইড বক্স- ১০%
বাংলাদেশের শুল্ক আইন ১৯৬৯ অনুযায়ী, সংসদের অনুমোদন ছাড়াই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিয়ন্ত্রণ শুল্ক আরোপ করতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশে তিন হাজার ৪০৮টি পণ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ শুল্ক রয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় বৈদেশিক মুদ্রার ব্যাপক সংকট এবং ঋণ খেলাপি হওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের ব্যাপারে সতর্ক হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি বেশ কিছু বিলাসী দ্রব্য আমদানিতে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পাকিস্তান।

করোনাভাইরাসের ধকল কাটিয়ে ওঠার পর বাংলাদেশে গত কয়েকমাসে আমদানি অনেক বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য-পণ্য, জ্বালানি তেল, গ্যাস, কাঁচামালের দাম বেড়েছে, ফলে এসব পণ্য আমদানি করতে গিয়ে ডলারের ব্যাপক চাহিদার কারণে এটির বিনিময় মূল্যও রেকর্ড ছুঁয়েছে।

আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।

ডলারের বিপরীতে টাকার মান কয়েক দফায় কমিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৯শে মে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নির্দেশ দেন যাতে তারা ডলারের বাজার এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

সূত্র : বিবিসি
 


   আরও সংবাদ