ঢাকা, রবিবার, ০৯ মে ২০২১, , ২৭ রমজান ১৪৪২
Reg:C-125478/2015

কবে ঐশ্বরিয়ার প্রেমে পড়েছিলেন অভিষেক, জানালেন


প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল, ২০২১ ১৩:২৫ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১০২ বার


কবে ঐশ্বরিয়ার প্রেমে পড়েছিলেন অভিষেক, জানালেন

আবারও বেড়েছে করোনা সংক্রমণ। করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিক সেক্টরে দেখা দিয়েছে চরম ব্যবসায়িক মন্দা। অথচ আর ক’দিন পরেই বছরের দুটি বড় উৎসব পহেলা বৈশাখ এবং ঈদ।

করোনার কারণে গত বছরও এ দুটি উৎসবে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিকে ব্যাপক লোকসান গুনতে হয়েছে। এবারও করোনার কারণে উৎসব দুটিতে ক্রেতাদের কেনাকাটার সুযোগ কম। সাধারণ মানুষের মাঝে বৈশাখ এবং ঈদের আগে আনন্দের চেয়ে এখন আতঙ্কই বেশি। এ পরিস্থিতিতে কেমন যেতে পারে আসন্ন নববর্ষ এবং ঈদ উৎসব- এ বিষয়ে দেশের স্বনামধন্য ফ্যাশন ডিজাইনাররা জানিয়েছেন তাদের ভাবনা কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কেয়া আমান।  

বিপ্লব সাহা
ফ্যাশন ডিজাইনার ও কর্ণধার
বিশ্বরঙ

করোনা বেড়েছে। তবে করোনা ভয় এখন মানুষের অনেকটাই কমে গেছে। গত বছর করোনা শুরুর দিকে মানুষ যতটা কঠোরভাবে করোনা বিধিনিষেধগুলো মেনে চলেছে এখন কিন্তু ততটা মানছে না। আসলে এ মহামারিটি এত দীর্ঘ সময় ধরে ছড়িয়ে আছে যে ভয় পেলেও মানুষের পক্ষে আর ঘরে বসে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। মানুষকে খেয়ে পরে তো বাঁচতে হবে।

যতই বলা হোক জীবন বাঁচান। কিন্তু বাঁচবে কিভাবে? ঘরে বসে থাকলে তো মানুষ অর্থকষ্টে না খেয়েই মারা যাবে। ব্যবসায়ীদের জন্য এ করোনা অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একেকটি উৎসবকে ঘিরে আমাদের বিপুল পরিমাণ অর্থলগ্নি করতে হয়। তার ওপর সারা বছর কর্মচারীদের বেতন, ব্যাংক লোন, শোরুম ভাড়া, সার্ভিস চার্জসহ হাজারো খরচ রয়েছে।

লকডাউন বা সাধারণ ছুটিতে কিন্তু আমাদের এ খরচগুলো কমে না। এ বিপুল পরিমাণ অর্থ আমরা কোথায় পাব যদি ব্যবসা না হয়? যেহেতু গত বছর মানুষ উৎসব পালন করতে পারেনি, তাই করোনাকাল হলেও ঈদ এবং বৈশাখ নিয়ে এবার আমাদের কিছুটা প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু নববর্ষ শুরুর মুহূর্তে যে সময়টিতেই সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হওয়ার কথা সে সময়টিতেই লকডাউন দেয়ায় গত বছরের মতো এবারও বেচাকেনায় ধস নেমেছে। একই অবস্থা আসন্ন ঈদ নিয়েও।

লকডাউনের এ সিদ্ধান্ত এখন না নিয়ে আরও কিছুদিন আগে নিলে ভালো হতো বলে আমার মনে হয়। তবুও বাঙালি উৎসবপ্রিয় মানুষ। তাই অন্তত ঈদে স্বল্প পরিসরে হলেও মানুষ কেনাকাটা করবে এবং সামান্য হলেও বেচাকেনা হবে বলে আশা করছি। ঈদে অফলাইনের চেয়ে অনলাইনে চাপটা একটু বেশি হবে বলে মনে হচ্ছে। এখন আগামী দিনগুলোই বলতে পারবে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ। 

শাহীন আহম্মেদ
স্বত্বাধিকারী ও ফ্যাশন ডিজাইনার
অঞ্জন’স

নববর্ষের বেচাকেনা তো প্রায় শেষই। যদিও এবার আমরা নববর্ষ নিয়ে কিছুটা আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু করেনা পরিস্থিতি সব বদলে দিয়েছে। ঈদে যদিও নতুন পোশাক মানুষ অল্পস্বল্প হলেও কেনাকাটা করবে। কিন্তু সেটি একেবারেই স্বল্প পরিসরে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করলে মানুষের ভয় বাড়বে, উচ্ছ¡াস একেবারেই কমে যাবে। তার প্রভাব পড়বে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে। আর এটাই স্বাভাবিক। আগামী দিনগুলোতে কি হতে যাচ্ছে আমরা কেউই বলতে পারছি না। ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির আগামী, উৎসব, ব্যবসা- এ সবকিছুই এখন নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতি সর্বোপরি দেশের পরিস্থিতির ওপর। 

খালিদ মাহমুদ খান
উদ্যোক্তা-কর্ণধার
কে-ক্রাফট

আবারও জটিল আকার ধারণ করেছে করোনা পরিস্থিতি। তবে পরিস্থিতিটা আর একটু আগে বোঝা গেলে পোশাক শিল্পের ক্ষতিটা কম হতো। যেহেতু মাঝে কয়েকটি মাস করোনা সংক্রমণ কিছুটা কম ছিল, তাই আমরা পোশাক শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা গত বছরের চেয়ে এবার পহেলা বৈশাখ এবং ঈদ নিয়ে কিছুটা আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু বর্তমান করোনা পরিস্থিতি হিসাবটা একদম বদলে দিয়েছে।

বর্তমানে করোনা সংক্রমণ যে হারে বাড়ছে তাতে নিয়ন্ত্রণটাও জরুরি। আমি গত বছরের মতো এবার এখনো ততটা হতাশ নই। কারণ এবার লকডাউন থেমে থেমে দেয়া হচ্ছে। এতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাকাটা করার পরিবেশ বজায় থাকবে। সামনে কঠোরভাবে লকডাউন আসবে শুনছি। এমনটা হলে ১৫/২০ রোজার পর করোনা সংক্রমণ কিছুটা কমে যাবে বলে আশা করছি।

এ রকম হলে রোজার শেষের দিকে লকডাউন উঠে গেলে মানুষ ঈদের জন্য জরুরি বা সামান্য কেনাকাটা হলেও করতে পারবে। বাস্তবতা হচ্ছে, যদি রোজার শেষের দিকে কিছুটা করোনা সংক্রমণ কমে তো ঈদে সামান্য বেচাকেনা হবে। আর এটা তখনই সম্ভব হবে যখন মানুষ দেশীয় পোশাকের প্রতি আগ্রহী ও আন্তরিক হবে।

ঈদের আগে কেনাকাটার সুযোগ তৈরি হলে তখন যদি আমরা দেশীয় পোশাক না কিনে বিদেশি পোশাকের প্রতি আগ্রহী হই তাহলে আমাদের দেশীয় শিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে পৌঁছাবে। পর পর দুই বছরের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা অধিকাংশ দেশীয় পোশাক বিজনেসের সঙ্গে জড়িতদের পক্ষেই সম্ভব হবে না। 

লিপি খন্দকার
স্বত্বাধিকারী ও ফ্যাশন ডিজাইনার
বিবিআনা

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে আসলে বিজসেন নিয়ে বা বৈশাখ-ঈদ নিয়ে কোনো কিছু ধারণা করা যাচ্ছে না। পুরোটাই অনিশ্চিত। তবে গত বছরের চেয়ে এবার বৈশাখে না হলেও, ঈদে বিজনেসের অবস্থা সামান্য হলেও ভালো হবে বলে মনে হচ্ছে। যেহেতু লকডাউন গত বছরের মতো দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা এবার কম, তাই আমি কিছুটা হলেও আশাবাদী।

অনলাইনেও বেচাকেনা কিছুটা বাড়বে। ঈদের প্রস্তুতি ততটা নেয়া হয়নি। কোভিড-১৯ গত বছরও ছিল, এবারও আছে। তাই অন্যান্য বছরের মতো ব্যাপকভাবে ঈদের প্রস্তুতি আমাদের পক্ষে এবার নেওয়ার সুযোগ, সামর্থ্য কোনটাই হয়নি। আমার মনে হয়, অন্যান্য ফ্যাশন হাউজগুলোরও একই অবস্থা।

গত বছরের ধাক্কাই এখনো আমরা সামলাতে পারিনি, তারওপর এ বছর কিছুটা বেচাকেনা না হলে দেশীয় পোশাক শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। ক্রেতাদের অবস্থাও আমরা বুঝি। করোনাকালে অনেকেই বেকার হয়েছেন, অনেকের আয় কমে গেছে। কেনাকাটার সুযোগ তাদেরও কম। তাই এ বছর আমরা রিজনেবল প্রাইসে গুরুত্ব দিয়েছি। কম দামে ফ্যাশনেবল এবং আরামদায়ক পোশাক রেখেছি বৈশাখ এবং ঈদ উপলক্ষে। 


   আরও সংবাদ