ঢাকা, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, , ৬ জ্বিলক্বদ ১৪৪২
Reg:C-125478/2015

জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মেলেনি নগরবাসীর


প্রকাশ: ৮ জুন, ২০২১ ১৪:৫২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৬৫ বার


জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মেলেনি নগরবাসীর

নগর জীবন: জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। কিন্তু সেই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মেলেনি নগরবাসীর। চলতি মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিতেই নাজেহাল ঢাকা। টানা এক ঘণ্টা বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায় নগরের অনেক এলাকার প্রধান সড়ক।

ডিএনসিসিতে আতিকুল ইসলাম এবং ডিএসসিসিতে শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পরপরই জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। তারই অংশ হিসেবে ছয় মাস আগে ওয়াসার কাছ থেকে খাল, নর্দমা, বক্স কালভার্ট ও পাম্পিং স্টেশনের নিয়ন্ত্রণ নেন নিজেদের হাতে। ধারাবাহিকভাবে খালে চালান অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান। কিন্তু তারপরও অনেক এলাকায় বৃষ্টির পানি নামতে দু-একদিন লেগে যায় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাগরিকরা।

নগরবাসীর অভিযোগ, বৃষ্টি হলেই নগরে জলাবদ্ধতা এখন নগরবাসীর নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকার দুই মেয়রের কোনো প্রতিশ্রুতিই কাজে আসছে না। চলাচলে আগের মতোই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

শুধু খাল, নর্দমা, বক্স কালভার্ট পরিষ্কার করলেই নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন হবে না বলে মনে করেন নগরবিদরা। তারা জানান, খালে পানিপ্রবাহ সৃষ্টির পাশাপাশি ঢাকার চারপাশের নতুন ওয়ার্ডকে গুরুত্ব দিতে হবে। রাজধানীর বৃষ্টির পানি যাওয়ার পথগুলো যেন ভরাট না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। এছাড়া এই কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং স্থানীয় জনগণকে যুক্ত করতে হবে। পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে ঢাকার দুই মেয়র যে পরিকল্পনা নিয়েছেন, আগামী দু-এক বছর পর তার সুফল মিলবে।

আবহাওয়া অধিদফতরের দেয়া তথ্যমতে, গত ১ জুন বছরের প্রথম ভারী বৃষ্টিপাত হয়। ওই দিন সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ঢাকায় বৃষ্টি হয় ৮৫ মিলিমিটার। এছাড়া শনিবার (৫ জুন) সকাল এবং বিকেলে দুই দফায় ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ১১১ মিলিমিটার, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৭ সালের ১২ জুন রাজধানীতে ১৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল।

গত শনিবারের বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। জলজটের কারণে কয়েকটি সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী লোকজন। এর মধ্যে উত্তর সিটির তেজতুরীবাজার, পশ্চিম কাজীপাড়া, পূর্ব শেওড়াপাড়া, পীরেরবাগ, কল্যাণপুর, উত্তরা-১ নম্বর সেক্টর, বিমানবন্দর সড়ক, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, তেজগাঁও সাতরাস্তাসহ বিভিন্ন অলিগলিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে অনেক এলাকায় যানজটের হয়।

পশ্চিম কাজীপাড়ার বাসিন্দা এম কে নাসির বলেন, ‘আকাশ মেঘলা হলেই এ এলাকার মানুষের মুখে কালো মেঘের ছায়া নেমে আসে। সবাই জলাবদ্ধতার আশঙ্কায় থাকেন। অনেকের বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে যায়। সড়কের পানি নামতে সাত থেকে আট ঘণ্টা লাগে। ফলে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।’

 


   আরও সংবাদ