ঢাকা, বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, , ২৫ জ্বিলহজ্ব ১৪৪২
Reg:C-125478/2015

ভাঙচুরের অভিযোগ পরীমনির বিরুদ্ধে


প্রকাশ: ১৭ জুন, ২০২১ ১৬:১৩ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪২৩ বার


ভাঙচুরের অভিযোগ পরীমনির বিরুদ্ধে

মিডিয়া কর্নার: চিত্রনায়িকা পরীমনির ঢাকা বোট ক্লাবকাণ্ডের পর এবার তাঁর বিরুদ্ধে গুলশানের একটি ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। কয়েকটি সোশ্যাল ক্লাবে মধ্যরাতে পরীমনির যাতায়াত ও মদপানের খোঁজখবরও নিচ্ছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘গত ৭ জুন রাতে খবর পেয়ে অল কমিউনিটি ক্লাবে যায় পুলিশ। সেখানে গিয়ে দেখা যায় ভাঙচুর হয়েছে। পরে গুলশান থানায় রেকর্ড (জিডি) রাখা হয়। ক্লাব কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করলে তদন্ত করা হবে।’ রেকর্ডে কী আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উনি আন-অথরাইজড ওখানে গেছেন। তারপর ক্লাব মেম্বারদের যে জায়গা ছিল, ওখানে নাকি বসতে চেয়েছেন, তারপর নাকি ভাঙচুর করেছেন।’

এ ছাড়া আরো কয়েকটি অভিজাত ক্লাবের কর্মকর্তারা পুলিশকে জানিয়েছেন, মধ্যরাতে নিয়ম ভেঙে পরীমনির জন্য বার খোলা রাখতে হয়। তাঁরা পুলিশকে বলেছেন মদের আসর বসানোর ঘটনাও। গুলশান অল কমিউনিটি ক্লাবে দলবল নিয়ে ঢোকেন পরীমনি। মধ্যরাতে সেখানে তিনি ভাঙচুর করেন। এ ঘটনার তদন্তে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় গুলশান থানার পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, গত ৮ জুন রাতে পরীমনির বোট ক্লাবকাণ্ডের তদন্তে নেমে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরোচ্ছে। তাঁর ব্যাপারে জানাতে ঢাকার একাধিক সোশ্যাল ক্লাবের কর্মকর্তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। তাঁরা পুলিশ ও গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন, পরীমনি তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জিমিসহ কয়েকজন তরুণ-তরুণী নিয়ে প্রায় রাতেই অভিজাত ক্লাব ও তারকা হোটেলে ঘুরে বেড়াতেন। তাদের সঙ্গে নিয়ে মদ পান করতেন মধ্যরাত পর্যন্ত। এ ক্ষেত্রে প্রায় রাতেই তাঁর কারণে ক্লাবের আইন ভাঙা হতো। এক ক্লাবে সময় কাটিয়ে তিনি যেতেন আরেক ক্লাবে।

গুলশান পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, পরীমনি গত ৭ জুন রাত ১২টার পর তাঁর সাবেক স্বামী তামিম হাসান ও দুটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের দুজন কর্মকর্তা পরিচয়ধারীকে নিয়ে গুলশানের একটি অভিজাত ক্লাবে যান। তখন তাঁরা মদ্যপ ছিলেন। ক্লাবে ঢুকে পরীমনি ও অন্যরা বার ব্যবহার করতে চান। বার বয় জালাল এতে অসম্মতি জানালে পরীমনি তাঁকে চড় মারেন। ক্লাব কর্মকর্তারা বেসামাল আচরণের প্রতিবাদ করলে তিনি নিজেই পুলিশে ফোন করেন। গুলশান থানার পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যান সেখানে যায়। পরে তারা বুঝিয়ে পরীমনিকে বাসায় পাঠায়। এ খবর পুলিশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। সীমানাঘেঁষা এলাকা হওয়ায় গতকাল বনানী থানার পুলিশ ওই ক্লাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বার বয় জালালের কাছ থেকে সেই রাতের ঘটনা জানতে চায়। ক্লাবটির সদস্য (প্রশাসন) এ জন্য পুলিশের কাছে সময় চেয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে একাধিক ক্লাব কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সব ক্লাবের ড্রেস কোড ও নিয়ম রয়েছে। রাত ১১টার পর ক্লাব ও বারে সার্ভিস বন্ধ রাখার নিয়ম। পরীমনি যতবার যে ক্লাবে অতিথি হয়ে গেছেন, সেখানেই এর ব্যত্যয় ঘটেছে। বনানীর একজন ব্যবসায়ী জানান, পরীমনি কথায় কথায় পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করেন। সেলিব্রিটি হওয়ায় পুলিশও তাঁর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে মজা পায়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর জোনের একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশের সব অভিজাত ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে পরীর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তাঁদের রেফারেন্সে তিনি সেখানে যাতায়াত করেন। তারকা হোটেলের বারেও তাঁর যাতায়াতের তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত রবিবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে হত্যা ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার দাবি করেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। এরপর রাত সাড়ে ১০টায় তাঁর বনানীর বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত জানান তিনি। পরে গত সোমবার দুপুরে ডিবি পুলিশের একটি দল উত্তরা থেকে নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে গত রাত ১০টার দিকে বনানীর বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পরীমনি। তাঁর ভাষ্য, ‘আমি যদি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েই থাকি, তাহলে আট দিন পরে কেন সেটি মিডিয়ায় এলো। যদি ঘটাতাম, এত দিন কি কোনোভাবেই মিডিয়ায় আসত না? আমি চাই, এটা নিয়েও তদন্ত হোক।’

 


   আরও সংবাদ