ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, , ১৩ সফর ১৪৪৩
Reg:C-125478/2015

কৃষি অফিসের অবহেলায় বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ করে ক্ষতির মুখে কৃষকরা


প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৭:০৩ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২০৭ বার


কৃষি অফিসের অবহেলায় বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ করে ক্ষতির মুখে কৃষকরা

গাজীপুরের শ্রীপুর কৃষি অফিস থেকে উপজেলার গোদারচালা গ্রামের রেজাউল করিমসহ অর্ধশত কৃষককে বিনা-১৭ ধানের বীজ বিনামূল্যে দেয়া হয়। রেজাউল দেড় বিঘা জমিতে এ জাতের ধান চাষ করেছিলেন। রোপণের সাত দিন পরই দেখেন ধানের শীষ বের হয়ে আসছে। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক রেজাউল। পরে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে জানতে পারেন, রোপণ প্রক্রিয়া না জানার কারণে তার জমিতে এমন অবস্থা হয়েছে। 

সরকারিভাবে বিনামূল্যে বীজ প্রদান করলেও চাষ ও রোপণ প্রক্রিয়ায় কৃষি অফিসের অবহেলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন রেজাউলসহ এলাকার অনেক কৃষক। ক্ষতিগ্রস্তরা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তরা কেবল দুঃখ প্রকাশ করে চলে যান।

একই গ্রামের নিজাম উদ্দিন ৫০ শতাংশ জমিতে এ জাতের ধান চাষ করেছিলেন। তারও একই অবস্থা। ধানের জমি চাষ, রোপণ ও সারসহ তার খরচ হয়েছিল প্রায় ১৫ হাজার টাকা। ধারদেনা করে এ টাকার জোগাড় হলেও ফের তাঁকে এ ধানের জমি ধ্বংস করে অন্য জাতের ধান রোপণ করতে হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো পরামর্শ পাননি।

স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এবার আমন মৌসুমে উপজেলাজুড়ে ১৩ হাজার ৫৩৭ হেক্টর জমিতে ধানের চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে উচ্চফলনশীল জাতের কথা বিবেচনা করে ২১ জন কৃষকের মধ্যে সাত একর জমি চাষের জন্য সরকারিভাবে বিনামূল্যে বীজ বিতরণ করা হয়। এছাড়া আরো অর্ধশত কৃষক তাঁদের জমিতে ডিলারদের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে বিনা-১৭ জাতের আমন ধানের চাষ করেছেন। তবে বীজ ক্রয়ের সময় কৃষকদের এ বিষয়ে তেমন কোনো নির্দেশনা কৃষি বিভাগ না দেয়ায় এমন সমস্যা তৈরি হয়েছে।

কৃষকদের ভাষ্য মতে, তারা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছেন আমন মৌসুমে উচ্চফলনশীল ধান হচ্ছে বিনা-১৭। ভালো ফলনের আশায় তারা আমন চাষ করলেও এ জাতের চাষপদ্ধতিসহ স্থানীয় কৃষি অফিস তাঁদের কোনো কিছু অবহিত করেনি। ফলে অন্যান্য ধানের জাতের মতো তারা বীজতলা তৈরি ও চারা রোপণ করেছেন। ৭ থেকে ১০ দিন পরে দেখেন, ধানের শীষ বের হয়ে গেছে। অনেকটা ক্ষতি হয়ে গেলেও বাঁচার তাগিদে ফের বাধ্য হয়েই  বিনা-১৭ ধানের জমি ধ্বংস করে অন্য জাতের ধানের চারা রোপণ করতে হচ্ছে। শুধু রোপণ প্রক্রিয়া না জানার কারণেই তাদের এ ক্ষতি। মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পাশে না পাওয়ার অভিযোগ কৃষকদের।

আজুগীরচালা গ্রামের শরাফত আলী বলেন, তিনি স্থানীয় এক ডিলারের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে দুই বিঘা জমি চাষ করেছেন। অপরিপক্ব অবস্থায় ধানের শীষ বের হয়ে যাওয়ায় তার ধানের সব জমিই নষ্ট হয়ে গেছে। পরে বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ করে ফের অন্য জাতের ধান রোপণ করেছেন। তার দাবি, তিনি এমন অবস্থার সম্মুখীন হলেও স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ বা তাদের পাশে পাননি।   


তেলিহাটি ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কামরুন্নাহার বলেন, তিনি ভুলে কৃষকদের এ ধানের রোপণ প্রক্রিয়া (চারা তৈরি) অবহিত করতে পারেননি। ফলে কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছে সেজন্য সবার কাছে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামসুন্নাহার বেগম বলেন, আমন মৌসুমে উচ্চফলনশীল জাতের ধানের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিনা-১৭। এ জাতের ধানকে সুপার ক্রপ বলা হয়। স্বল্প সময়ে অধিক ফলনে এ ধানের বিকল্প খুব কম। তবে এ জাতের ধান চাষে কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। বীজতলায় চারার বয়স ২০ দিনের মধ্যেই তা রোপণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে কৃষক হয়তো অন্যান্য ধানের চারার মতো এ জাতটিও রোপণ করেছেন। এর ফলেই চারা গাছে শীষ বের হয়ে আসছে। এটা কৃষকের অজ্ঞতা ও স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ  বিভাগের অবহেলার ফল।

এ বিজ্ঞানীর পরামর্শ, যেসব কৃষকের জমিতে দ্রুত ধানের শীষ বের হয়ে গেছে, তাদের জমি ধ্বংস করতে হবে না। দ্রুত দ্বিগুণ ইউরিয়া প্রয়োগ করলে শীষগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। পরে সেখান থেকে নতুন কুশি বের হবে তাতে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এএসএম মুয়ীদ উল হক বলেন, এ জাতের ধান রোপণে অল্প সময়ের চারা রোপণ করতে হয়। উচ্চফলনশীল জাতের কথা বিবেচনা করে আমরা কৃষকদের বিনামূল্যের বীজ সরবরাহ করেছি। স্বল্প সময়ে আমাদের বার্তাটি হয়তো কৃষকরা বুঝতে পারেননি। তারা অন্যান্য জাতের মতো মনে করে ধানের চারা রোপণ করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের উপসহাকরী কৃষি কর্মকর্তার অবহেলার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূত্র: বণিক বার্তা


   আরও সংবাদ