ঢাকা, শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, , ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩
Reg:C-125478/2015

জকিগঞ্জে অভয়াশ্রম থেকে মাছ লুট


প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৭:৩৫ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৬৬০ বার


জকিগঞ্জে অভয়াশ্রম থেকে মাছ লুট

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কাজলশাহ ইউনিয়নের চৌধুরীবাজারস্থ ‘কুল গাঙ’ মৎস্য অভয়াশ্রম থেকে গত তিনদিন ধরে থেকে মাছ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে মানুষ। গতবছরও একইভাবে ওই অভয়াশ্রম থেকে মাছ লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই ঘটনায় অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার আগে এবারো অভয়াশ্রম থেকে মাছ হরিলুট চলছে।

এদিকে প্রকাশ্যে অভয়াশ্রম থেকে মাছ লুটের ঘটনা ঘটলেও নীরব উপজেলা প্রশাসন। শনিবার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের লোকজন ও থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও অভিযুক্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এমনকি এ ঘটনায় সম্পৃক্তদের চিহ্নিত করতেও পারেনি।

সিলেট জেলার ১৩টি মৎস্য অভয়াশ্রমের মধ্যে জকিগঞ্জ উপজেলার একমাত্র মৎস্য অভয়াশ্রম এটি। কয়েক বছর আগে কাজলশাহ ইউনিয়নের চৌধুরী বাজারস্থ ‘কুল গাঙ’ নামের খালটি সংরক্ষিত এলাকা চিহ্নিত করে মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করে স্থানীয় প্রশাসন। গত বছর একটি চক্র নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ লুট করে নিয়ে যায়। মাছ লুটের সময় স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অনেক বাধা বিপত্তি আসে। গত বুধবার থেকে ফের ওই অভয়াশ্রমে মাছ লুট শুরু করে স্থানীয়রা। তবে এবার আর কেউ বাধা দিতে আসেননি। টানা চারদিন দিন ধরে অভয়াশ্রমের পার্শ্বর্শবর্তী গোটারগ্রাম, পশ্চিম গোটারগ্রাম, কড়ইমুড়া, মঙ্গলশাহ, উত্তর জামুরাইল, দক্ষিণ জামুরাইল গ্রামের মানুষ অবাধে মাছ লুট করে নিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাছ লুটের বিষয়টি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে অবগত করেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের চাপে বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাস্থলে যান তিনি। তবে তিনি কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে চলে আসেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু তাহের চৌধুরী বলেন, স্থানীয় লোকজন মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। সেখানে আমাদের সরকারি কোনো পাহারাদার নেই। খবর পেয়ে আমাদের লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সে সময় কাউকে পাওয়া যায়নি। গতবছরও মাছ লুটের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা আইনি পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিলাম কিন্তু স্থানীয়দের কারণে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ঘটনার তদন্তে কেউ স্বাক্ষী দিতে রাজি না হওয়ায় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমি আক্তার জানান, মাছ লুটের খবর পেয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। তারা যাওয়ার পরে কাউকে পায়নি। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে পারলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত বছর মাছ লুট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সে ঘটনায়ও আমি এবং সহকারী কমিশনার (ভুমি) ঘটনাস্থলে গিয়েছি। কিন্তু আমরা কাউকে ঘটনাস্থলে পাইনি। কাউকে না পেলে কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। তবে এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।


   আরও সংবাদ