ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, , ৫ জ্বিলহজ্ব ১৪৪৩
Reg:C-125478/2015

আসাদ এভিনিউ সড়কের ফুটপাত পথচারীবান্ধব করার দাবী

স্টাফ রিপোর্টার


প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২২ ১৭:১৪ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪৯৫ বার


আসাদ এভিনিউ সড়কের ফুটপাত পথচারীবান্ধব করার দাবী

 

মোহাম্মদপুর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকা। এ এলাকার বেশ কিছু সড়কের ফুটপাত পথচারী উপযোগী করে তৈরি করা হলেও মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে আসাদগেট বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ১.৩ কিঃমিঃ সড়কটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এখানে পথচারীদের জন্য হেঁটে যাতায়াতের নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়েই পথচারীরা এই সড়কে হেঁটে যাতায়াত করেন। অবিলম্বে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে আসাদগেট পর্যন্ত সড়কে নিরাপদে হেঁটে যাতায়াতের পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি সমগ্র শহরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পথচারীদের প্রাধান্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আজ ১৫  ফেব্রুয়ারি ২০২২ সকাল ১১ঃ০০টায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), নাগরিক অধিকার সংরক্ষন ফোরাম (নাসফ), প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠন এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টসহ ১৯ টি সংগঠনের সম্মিলিত উদ্যোগে টাউন হলের সামনে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর প্রজেক্ট অফিসার আহমেদ হোসেন এর সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির সিনিয়র প্রজেক্ট ম্যানেজার জিয়াউর রহমান ও সভাপতিত্ব করেন প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ। কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চ এর সভাপতি আমির হাসান, ধানমন্ডি কচিকন্ঠ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক এইচ এম নুরুল ইসলাম, ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক এম এ মান্নান মনির, রায়ের বাজার হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক তাহাজ্জোত হোসেন, ডাবিøউডিডিএফ এর অ্যাডমিন রওনক জামান ঊষা, ছায়াতল বাংলাদেশ এর ইসরাত জাহান জয়া, স্টপ এমিশনস নাও এর সদস্য সামিউল হাসান, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এর সহকারি পলিসি অফিসার তালুকদার রিফাত পাশা, ডাস সংস্থার প্রজেক্ট অফিসার রবিউল ইসলামসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, অসংখ্য মানুষের কর্মস্থল ও আবাসিক এলাকা থাকার কারণে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড শহরের অন্যতম ব্যস্ত একটি স্থান, যা একই সাথে একাধিক রুটকেও সংযুক্ত করেছে। ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনগোষ্ঠী প্রতিনিয়ত তাদের নিত্য-নৈমিত্তিক প্রয়োজনে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে আসাদগেট পর্যন্ত সড়কটিকে হেঁটে চলাচলের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে থাকে। এছাড়া আসাদ এভিনিউতে বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এই সড়কে হেঁটে যাতায়াত করেন। কিন্তু পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ভাঙ্গাচোড়া ফুটপাত, ফুটপাতে গাড়ি পার্কিং, পুলিশ বক্স, ফুটপাতের উপর গাড়ি বের হওয়ার র‌্যাম্প তৈরি, দোকানের মালামাল রাখা, খোলা ম্যানহোল, বিদ্যুতের ভাঙ্গা খুঁটি, ময়লা-আবর্জনা, সড়ক পারাপারে জেব্রা ক্রসিং না থাকা ইত্যাদি কারণে পথচারীদের চলার পথে বহুমুখী প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হতে হচ্ছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্যও এখানে উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি।
বক্তারা আরো বলেন, শুধু মোহাম্মদপুর নয়, ঢাকার প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই পথচারীরা অনিরাপদ। কিছু এলাকায় ফুটপাত উন্নয়ন ও সংস্কার করা হলেও তদারকির অভাবে পথচারীরার উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল পাচ্ছেন না। “জাতীয় সমন্বিত বহু মাধ্যম ভিত্তিক পরিবহন নীতিমালা, ২০১৩” ও “ঢাকা স্ট্রাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্লান (এসটিপি) তে “পথচারীর অগ্রাধিকার” বিষয়ে সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। অবিলম্বে নগর পরিকল্পনায় পথচারীদের প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই।
কর্মসূচি থেকে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে আসাদগেট পর্যন্ত (আসাদ এভিনিউ) সড়কে হেঁটে চলাচলের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতাসমূহ তুলে ধরার পাশাপাশি বক্তারা হেঁটে যাতায়াতের নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন, যেমন- ভাঙাচোড়া ফুটপাত সংস্কার, ফুটপাতে হাঁটার পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিতকরণ, পথচারীর জন্য বিভিন্ন সুবিধাদি, যেমন- বসার ব্যবস্থা, ছাউনি, পাবলিক টয়লেট, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করে ফুটপাত নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, সমতলে রাস্তা পারাপারে জেব্রা ক্রসিং, সাইন, সিগন্যাল লাইট ও সাইন বোর্ড স্থাপন, হুইল চেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য ফুটপাতে ঢালুপথ (র‌্যাম্প) তৈরি, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যবহার উপযোগী করে ফুটপাতে টেকটাইল্স স্থাপন, জেব্রা ক্রসিংয়ের পূর্বে গাড়ি থামানোর জন্য আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত, ফুটপাত ও সড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, হকারদের উচ্ছেদ না করে ব্যবস্থাপনার আওতায় নিয়ে আসা, নিয়মিত মনিটরিং করা ইত্যাদি।


   আরও সংবাদ