ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, , ৫ জ্বিলহজ্ব ১৪৪৩
Reg:C-125478/2015

বিলুপ্তির পথে টক মিষ্টি স্বাদের ডেউয়া

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৯ মে, ২০২২ ১১:০৬ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৫২ বার


বিলুপ্তির পথে টক মিষ্টি স্বাদের ডেউয়া

 

গ্রাম বাংলার অতি পরিচিত ফল ডেউয়া। এটি বন কাঁঠাল বা গ্রাম্য ভাষায় বত্তা ফল হিসেবে পরিচিত। দেখতে অদ্ভুত টক-মিষ্টি স্বাদের এ ফলটি সবার পছন্দ। ডেউয়া বা বত্তা ফলের গাছ ছোট বয়সে অনেকেই দেখছেন। বর্তমানে ফলটি বিলুপ্তির পথে। কিন্তু দ্বীপ জেলা ভোলার লালমোহন উপজেলায় এখনো ডেউয়া গাছ আছে। এটি কাঁঠাল গাছের মতই বড় হয়। ফল ধরার আগে দেখে বোঝার উপায় থাকে না।

ডেউয়া গাছের আকার বড় কিন্তু ফল বেশ ছোট। খোসাটা বেশ পাতলা। এর শাঁসগুলো বেশ ছোট।

গ্রামে বন ধ্বংসের কারণে ডেউয়া বা বন কাঁঠাল দুর্লভ হয়ে পড়ছে। গ্রামগঞ্জে পাওয়া গেলেও শহুরে খুব একটা চোখে পড়ে না। গ্রীষ্মকালীন ফলের পাশাপাশি বাজারে দেখা মিলে বিলুপ্ত প্রায় এই ফল।

ডেউয়া গাছ বহু শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট, বড় আকারের বৃক্ষ। প্রায় ২০-২৫ ফুট উঁচু হয়। এর ছাল ধূসর-বাদামী রঙের। গাছের ভেতর সাদাটে কষ বা আঠা থাকে। পাতা ৬-১২ ইঞ্চি লম্বা এবং ৪-৭ ইঞ্চি চওড়া হয়, যা অনেকটা কাক ডুমুরের পাতার মত । তবে আকারে সামান্য বড়।

স্ত্রী ও পুরুষ ফুল আলাদা। স্ত্রী ফুল আকারে বড় ও মসৃণ। এর ফুলে পাপড়ি নেই, ছোট গুটিরমত। স্ত্রী ফুল থেকে ফল হয়। ফল কাঁঠালের ন্যায় যৌগিক বা গুচ্ছ ফল। বাইরের আবরণ অসমান। কাঁচা ফল সবুজ, পাকলে হলুদ। ভিতরের শাঁস লালচে হলুদ। প্রতিটি শাঁসের মধ্যে একটি করে বীজ থাকে। সাধারণত মার্চ মাসে ফল আসে এবং মে মাসের শেষের দিকে ফল পাকতে শুরু করে। গাছ রোপনের উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল।

দেখতে অদ্ভুত এবং খেতে টক-মিষ্টি। ডেউয়া ফল স্বাস্থ্যেরজন্য খুবই উপকারী। পাশাপাশি এর রয়েছে বেশকিছু ভেষজ গুণ। অনিয়ন্ত্রিত ওজন বর্তমান সময়ে একটা বড় সমস্যা। অথচ ঠাণ্ডা পানিতে ডেউয়া ফলের রস মিশিয়ে নিয়মিত পান করলেই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় বলে জানান স্থানীয় একাধিক প্রবীণ গ্রাম্য কবিরাজ । এমনকি ডেউয়া ফল রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করে খাওয়া যায়।

মুখেররুচি ফেরাতে খাওয়া হয় এই ফল। ডেউয়া ফলের রসের সঙ্গে সামান্য লবণ ও গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে খাওয়ার আগে খেলে মুখে রুচি ফিরে আসবে।

পুষ্টি বিজ্ঞানীরা বলেন, মধুর অম্ল যুক্ত পাকা ডেউয়া অরুচি ও পেটের বায়ুনাশে অমৃত। শুধু তাই নয়, পিত্ত ও যকৃতের জন্য উপকারী।

লাল মোহনের রমাগঞ্জের প্রবীণ মুরুব্বি মোঃ জিয়াউল হক, আব্দুল কাদের ও আঃ রসিদ মিয়াসহ সচেতন মহল বলেন, সরকারের কাছে আমাদের দাবি, প্রতি বছর বৃক্ষ রোপনের কর্মসূচিতে যেন ডেউয়া ফলের ছাড়া ও বীজ রোপনের উদ্যোগ নেয়। তাহলে আর বিলুপ্ত হবে না এ ফল বা ফল গাছটি- এমনটাই আশা তাদের।


   আরও সংবাদ